নাৎসিদের উত্থান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাৎসিদের উত্থান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(১ম পর্ব) Hitler in Munich

১ম বিশ্বযুদ্ধে, হিটলার একজন ডিসপ্যাচ রানার(বার্তা বাহক) হিসেবে জার্মান আর্মিতে যোগদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে, নিজ যোগ্যতাবলে তিনি কর্পোরাল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে এসে হিটলার একবার মারাত্মক আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।




সুস্থ হওয়ার পরে, হিটলার সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যাননি। বরং তিনি মিউনিখে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। মিউনিখে অবস্থানকালে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(২য় পর্ব) The German Workers Party

হিটলার লিখেন, "আমি বুঝতে পারছি, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। একমাত্র বোকা, মিথ্যুক আর বিশ্বাসঘাতকেরাই শত্রুর কাছ থেকে ভাল মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার আশা করতে পারে।"


" প্রতিটা রাত আমি নানাবিধ ভাবনায় পার করে দিই। যতই ভাবি ততই তাদের প্রতি আমার ঘৃণাবোধ বাড়তে থাকে। অথচ আমরা কি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারতাম না? দেশকে যারা ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যে বেঁচে দিয়েছে তাদের ক্ষমা নেই। তারা বেজন্মা পাপী। কঠোর শাস্তিই তাদের প্রাপ্য।"



হিটলার আরও বলেন, "এসব ভাবতে গেলেই আমার চোখ জ্বালা করতে শুরু করে।(১ম বিশ্বযুদ্ধে হিটলার শত্রুর গ্যাস আক্রমণের শিকার হন। বেশ কয়েকদিন ধরে তাকে চোখ জ্বালা কষ্ট সহ্য করতে হয়)। কিন্তু এই জ্বালা আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণকে বন্ধ করতে পারেনি।"


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(৩য় পর্ব) The NAZI party

১ম বিশ্বযুদ্ধের পর, অসংখ্য রাজনৈতিক দল জার্মানিতে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে। জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি(DAP) তাদের মধ্যে অন্যতম। অন্য দলগুলো কালের অতলে হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, মানুষ আজও জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির কথা মনে রেখেছে। কারণ, নাৎসি পার্টি হল এই ছোট রাজনৈতিক দলেরই বিবর্তনের ফসল।
জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে হিটলারের মেম্বারশীপ কার্ড।

জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে হিটলারের যোগদানের ঘটনাটি, অত্যন্ত আকস্মিকভাবে ঘটে যায়। প্রস্তাব পাওয়ার পরে তিনি ভাবনায় পড়ে যান।  সারারাত তিনি ঘুমোতে পারেননি। তিনি নিজে একটি রাজনৈতিক দল গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগদান করলে সেই আশা পূরণ হবে না। তার উপর, রাজনৈতিক দলটি একেবারে আনাড়ি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(৪র্থ পর্ব) "এই রিভলভারে ৪টা গুলি আছে, ৩টা আপনাদের জন্যে, আর একটা আমার নিজের জন্যে।"



৯ নভেম্বর, ১৯২৩ সাল।

বাভারিয়ান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নোটিশ।

"কয়েকজন উগ্রমানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তির ছলচাতুরি এবং বিশ্বাসঘাতকতার কারণে, বার্গার-ব্রকলার(Bürgerbräukeller) বীয়ার হলের সভা পুরোপুরি পন্ড হয়েছে। বন্দুকের নলের মুখে, কর্নেল সাইসার(Hans Ritter von Seisser), জেনারেল লসো(Otto von Lossow) এবং আমার কাছ থেকে, তারা যে সব দাবি-দাওয়া আদায় করে নিয়েছে, আমি আমার নিজ ক্ষমতাবলে তা বাতিল ঘোষণা করছি। সেই সাথে, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খলামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকবার দায়ে, আজ থেকে, "ন্যাশনাল সোশিয়ালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স্‌ পার্টি"(National Socialist German Workers Party) সংক্ষেপে নাৎসি পার্টিকে, সম্পুর্ণরূপে অবৈধ ঘোষণা করা হল।
-গুস্তাভ রিটার ভন কাহ্‌র(Gustav Ritter von Kahr)
ডেপুটি কমিশনার অফ বাভারিয়া।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(৫ম পর্ব) নাৎসি পার্টি, রাষ্ট্রের অন্তঃপুরে অপর রাষ্ট্র

১৯২৪ সাল।

ল্যান্ডস্‌বার্গ কারাগার।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অ্যাডলফ হিটলার আট মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কারাগারে তিনি বিশেষ বন্দীর মর্যাদা পেয়েছেন। একটি বড় আরামদায়ক কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে এবং “বিশেষ বন্দীর” যাবতীয় সুযোগ সবিধা তাকে প্রদান করা হয়েছে। বন্দীকক্ষের জানালা দিয়ে, হিটলার দূরের নয়নাভিরাম পাহাড়গুলো স্পস্ট দেখতে পেতেন।




দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(ষষ্ঠ পর্ব) সাফল্যের নিশ্বাস দূরত্বে

১৯২৫ সালে হিটলার কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। অতঃপর তিনি তার দলকে নতুন করে সাজানোর কাজে হাত দেন। যা কিছু করার নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে করতে হবে। পরিকল্পনা অনুসারে A State within a State নীতি গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রের আদলে পার্টিকে সাজানো হয় এবং সেই সাথে খোলা হয় অনেক বিভাগ। সমগ্র দেশজুড়ে নাৎসি পার্টির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হিসেবে, জার্মানিকে ভাগ করা হয় ৯৮টি "গাউ(Gau)" এ। গাউ শব্দের বাংলা অর্থ হল "অঞ্চল"। এছাড়া অষ্ট্রিয়াতে, নাৎসি পার্টির অষ্ট্রিয়া শাখার আওতাধীন, অতিরিক্ত ৭টি গাউ সৃষ্টি করা হয়। প্রতিটি গাউ এর দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন "গাউলেইতার"(Gaulieter, eng:Gauleader)কে। এদের কাজ হল, পার্টির পক্ষে সর্বাত্মক প্রচালনা চালানো, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা, সদস্যদের মধ্যে সংহতি রক্ষা করা, সর্বপরি নিজেদের আদর্শে অটল থাকা এবং সেই আদর্শ যথাসম্ভব প্রকাশ করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(শেষ পর্ব) নাটকীয় বিজয়

১৯৩২ সালের ১০ এপ্রিল, জার্মানিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা নির্বাচনের মত, এতেও প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গের কাছে অ্যাডলফ হিটলার পরাজিত হন। পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় যদিও তিনি প্রায় ২০ লাখ ভোট বেশী পেয়েছিলেন, কিন্তু তবুও প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গকে হারানোর সামর্থ্য তার ছিল না।




হিটলারের পরাজয়ে তার বিরোধিরা উল্লসিত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, চ্যান্সেলর হেইনরিখ ব্রুনিং(Heinreich Bruening)। হিটলার নামক পাগলা ঘোড়াটিকে টানা দ্বিতীয়বারের মত আটকানো গেল, এই ভেবে তিনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। তার পরবর্তী লক্ষ্য, নাৎসিদের পঙ্গু করে দেওয়া।