স্বপ্নের থার্ড রাইখ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বপ্নের থার্ড রাইখ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(১ম পর্ব) রাইখস্টাগ অগ্নিকান্ড(The Reichstag on fire)




২৭শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩।

সন্ধ্যা সাতটা।

"হ্যালো, যোসেফ গোয়েবলস বলছি।"

"হ্যালো, ডক্টর গোয়েবলস, আমি ডক্টর হাফেন্সস্টাগল।"

"ও! কেমন আছেন হের্‌ ডক্টর?"

"আছি কোনোরকম। একটা ঘটনা ঘটেছে হের্‌ গোয়েবল্‌স।"

"তবে দেরী না করে বলে ফেলুন ডক্টর। আজ আমার বাড়িতে হের হিটলার অতিথি হিসেবে এসেছেন। আমি চাই না তার রাতটা মন্দ কাটুক।"

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(২য় পর্ব) Hitler becomes Dictator




নির্বাচনে জয়লাভ করবার জন্যে যদি কোনো দল তার দেশের একটি আস্ত দালানে অগ্নিসংযোগ ঘটায়, তবে তাদের আপনি কি বলবেন? নিশ্চয় উন্মাদ?

বাংলাদেশীদের কাছে এটি মোটেও অবাক করার মতন কোনো ব্যাপার নয়। আমরা হরহামেশাই আমাদের দেশের প্রধান দুই দল এবং তাদের দোসরদের কাঁদা ছোড়াছুড়ি এবং জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্যে একে অপরের উপর দোষ চাপানোর ঘটনা প্রত্যক্ষ করি। সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ করে ঠিকই। কিন্তু যখন সব ধরণের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ পদ্ধতি ব্যর্থ হয়, তখন আমাদের শেষ আশ্রয় হল ব্যালট পেপার। কিন্তু সেখানেও আমরা নিরুপায়। প্রধান দুটি নিমকহারাম দল ছাড়া ভোট দেওয়ার মত যে আর কেউ নেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(৩য় পর্ব) the night of the long knives




১৯৩৩ সালের ২৩শে মার্চ, হিটলার তার দীর্ঘদিনের অধরা "enabling act" আইনটি বিনা বেগে পাশ করাতে সক্ষম হন। এটি এমন এক আইন, যার মাধ্যমে জার্মানির সম্পূর্ণ সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে। এছাড়া এর মাধ্যমে নতুন আইন পাশ এবং পুরাতন সকল আইনের পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করা সম্ভব। এই আইন অনুযায়ী জার্মানির সমস্ত দায় দায়িত্ব হিটলারের উপর বর্তালেও, আইনের একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে, জার্মানির প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বলবৎ রাখার কথা বলা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান সেনানায়ক মার্শাল পল ভন হিন্ডেনবার্গ। হিটলার "enabling act" এর মাধ্যমে জার্মানির সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করতে সক্ষম হলেও, প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ চাইলেই সামরিক আইন জারি করে হিটলারের শাসনের অবসান ঘটাতে পারবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(৪র্থ পর্ব) operation hummingbird




৩০শে জুন, ১৯৩৪।

শনিবার।

মিউনিখে নিজের জন্যে নির্ধারিত হোটেল কক্ষে টেলিফোন সেট হাতে নিয়ে একা বসে আছেন অ্যাডলফ হিটলার। ৩০ ঘন্টা পেড়িয়ে গেছে, কিন্তু তিনি তার চোখের পাতা এখনো এক করতে পারেননি। ঘড়িতে সময় তখন সকাল ১০টা। অথচ এরই মাঝে কত কিছু ঘটে গেছে! সকাল সাড়ে ছয়টায় তিনি মিউনিখে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। আর সকাল সাতটার মধ্যেই, তিনি তার তথাকথিত শত্রুদের হোটেলে উপস্থিত হন এবং সরাসরি তাদের রুমে হানা দেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(৫ম পর্ব) "হিটলার, জার্মানির ফুয়েরার"।




হিটলারের প্রিয় S.A বাহিনীর অপমৃত্যু ঘটে ১৯৩৪ সালের ৩০শে জুন। ১৯২০ সাল থেকে S.A বাহিনী ছিল নাৎসি পার্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ কথা মোটেই অস্বীকার করা যাবে না যে, হিটলারের ক্ষমতায় আসার পিছনে S.Aএর অবদান ছিল অনেক বেশী। অথচ ১৪ বছর পর, হিটলার নিজ হাতে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করলেন। S.A এর সংগ্রামের এ কেমন প্রতিদান?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(ষষ্ঠ পর্ব) The Triumph of the Will(ছবি+মুভি ব্লগ)




আজ থেকে ৭৯ বছর আগে, লেনি রিফেনস্টাল নামক একজন জার্মান অভিনেত্রী কাম পরিচালক একটি মাস্টারপীস তৈরি করেছিলেন। মাস্টারপীসটি নাম হল "The Triumph of the Will"। নিজের সমস্ত মেধা, শ্রম এবং ভালোবাসা দিয়ে লেনি এটি সৃষ্টি করেছিলেন। এ কারণে, লেনির সাধনা বৃথা যায়নি। তার অবদানের পুরস্কারস্বরূপ, বর্তমানে "The Triumph of the Will"কে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রোপাগান্ডা সিনেমা বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(সপ্তম পর্ব) গেস্টাপো(GeStaPo)




স্বপ্নের থার্ড রাইখ সিরিজের প্রথম পাঁচটি পর্বে আমি হিটলারের চূড়ান্ত ক্ষমতা দখল তথা তার জার্মানির একনায়ক বনে যাওয়ার কাহিনী তুলে ধরেছিলাম। ১৯৩৩ সালে, চ্যান্সেলর হিসেবে হিটলার জার্মানির গদিতে বসেছিলেন। আর ১৯৩৪ সালের অগাস্ট মাসের মধ্যে তিনি জার্মানির অবিসংবাদিত নেতা তথা জার্মানির ফুয়েরার বনে যান। এই দেড় বছর সময়ের মধ্যে, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পাশাপাশি, নাৎসিরা নিজেদের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছিল। তার মধ্যে একটি হল গেস্টাপোর সৃষ্টি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(অষ্টম পর্ব) "যে সমাজে বই পুড়িয়ে ফেলা হয়, সে সমাজের মানুষগুলোর আগুনে পুড়ে মৃত্যু নিয়তি নির্ধারিত।"



***
সিংহাসন দখল করাটা নিঃসন্দেহে একটা কঠিন কাজ। কিন্তু তা টিকিয়ে রাখাটা আরও কঠিন। এই বাক্য দুটির সত্যতা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। ইতিহাস ঘাটলে এ সম্পর্কে ভুরি ভুরি প্রমাণ পাওয়া যাবে বৈকি। ১৯৩৩ সালে, হিটলার যখন জার্মানির সিংহাসনে আসীন হন, তিনি ভালো করে জানতেন, এই সিংহাসনটি আঁকড়ে ধরে রাখাটা হবে একটি দুঃসাধ্য কাজ। তবে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে তার পরিষ্কার ধারণা ছিল। হিটলার এবং তাকে ঘিরে থাকা তার অত্যন্ত মেধাবী কিন্তু দুর্জন অমাত্যগণেরা ভালো করেই জানতেন কি করে এই পরম আরাধ্য ক্ষমতাকে এবং সেই সাথে নাৎসি আদর্শবাদকে টিকিয়ে রাখতে হয়।

পোস্টের এই পর্যায়ে এসে পাঠকদের কাছে একটি প্রশ্ন করতে চাই। তা হল, আপনাকে যদি হিটলারের মত, একটি রাষ্ট্রের একনায়ক বানানো হয়, তবে আপনি কি করে আপনার ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখবেন? অনেকে বলবেন যে জনগণের মন জয় করার মাধ্যমে ক্ষমতা নিঃসন্দেহে টিকিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু, আপনার মনে যদি আগে থেকে কোনো ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা থেকে থাকে, এবং আপনি যদি আপনার রাষ্ট্রের জনগণকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে কাজ এ লাগাতে চান, তখন আপনি কি করবেন?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(৯ম পর্ব) জার্মান সমরাস্ত্রীকরণ




১৭ই মার্চ ১৯৩৫, রবিবার।

সকালবেলা।

খবরের কাগজ খোলার সাথে সাথে পুরো বিশ্ববাসীর কাছে ধরা পড়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় প্রতিটি দেশের সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় স্থান পায় নিম্মলিখিত এই খবরটি...

"১৯১৮ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের শাস্তি স্বরূপ, জার্মানির উপর আরোপিত ভার্সাই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত অমান্য করে, জার্মান একনায়ক অ্যাডলফ হিটলার একটি নতুন আইন জারি করেছেন। এই আইন জারির মাধ্যমে হিটলার জার্মান সমরাস্ত্রীকরণকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করলেন। গতকালের ভাষণে হের হিটলার ভার্সাই চুক্তি অনুমোদিত আকারের চেয়েও বড় আকারের একটি সেনাবাহিনীর অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে নেন। তিনি এও বলেন যে বর্তমান শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর আকার ধরা হয়েছে ১২টি আর্মি কর্প্স, যার অধীনে থাকবে ৩৬টি আর্মি ডিভিশন।........."

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(শেষ পর্ব) টার্গেট রাইনল্যান্ড


আখেন, ট্রিয়ার এবং সারব্রুকেন; জার্মানির রাইনল্যান্ডে অবস্থিত তিনটি শহরের নাম। জার্মানির রাইন নদী এই তিন শহর ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে। জায়গার নাম রাইনল্যান্ড রাখা হয়েছে বিখ্যাত নদী রাইনের নামে। শহরে বসবাসকারী জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠই হল জার্মান। তাদের দেখলে মনে হয় যে তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। নীরবে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করলেও এই তিন শহরের মানুষের তথাপি পুরো রাইনল্যান্ডবাসীর মনে একটি দুঃখ আছে। তবে এই দুঃখ শুধুমাত্র রাইনল্যান্ডবাসীর একার দুঃখ বললে ভুল হবে। বরঞ্চ তা সমগ্র জার্মানির দুঃখ।

তাদের দুঃখের কথা জানতে হলে আমাদের আরও কিছুটা অতীতে, তথা ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে ফিরে যেতে হবে।