স্বাগতম

এই ব্লগটি ২য় বিশ্বযুদ্ধের উপর নির্মিত । এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সাইটের লেখাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন ব্লগ এবং ওয়েবসাইট থেকে। এখানে স্ক্রল করে নিচে যেতে থাকলে লেখাগুলো সব সিরিয়ালি পাবেন।
যেকোন প্রয়োজন বা অভিযোগ জানাতে inbox এ যোগাযোগ করুন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারের শৈশবকাল

১৯১৮, ১০ নভেম্বর, সন্ধ্যা,


১ম বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিন।


পাসওয়াক হাসপাতাল। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিছুটা দূরে বলে তা শত্রুর আর্টিলারির আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। চারদিকে আহত সৈনিকের আর্তনাদ। কিন্তু এরই মাঝে একটি খবর হাসপাতালের পরিবেশকে আরও গুমট করে দেয়। এক সৈনিক থেকে আরেক সৈনিক, এভাবে বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পরে সেই খবর। হাসপাতালের বৃদ্ধ পুরোহিত, খবরটি শুনতে পায়। তার আর তর সয় না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ ১ম বিশ্বযুদ্ধ(১)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে আগে ১ম বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে কটি কথা বলে নেওয়া জরুরি। কেননা ১ম বিশ্বযুদ্ধ এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে ছাড়া আরেকটির আলোচনা প্রায় অসম্ভব।


ত্রিপক্ষীয় আঁতাতঃ
১৯০৭ সালে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার মধ্যে আঁতাতটি গড়ে উঠে। এই আঁতাত ত্রিপক্ষীয় মিত্রজোট কিংবা শুধুমাত্র মিত্রশক্তি নামেও পরিচিত। আঁতাত গঠনের পূর্ব থেকেই ফ্রান্স-রাশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। ১৯০৭ সালে যুক্তরাজ্য এতে যোগদান করে। অন্যদিকে ইটালি জার্মানীর পক্ষ অবলম্বন করলেও ত্রিপক্ষীয় আঁতাত গঠনের কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করে বসে। এতে ইতালীয়-জার্মান সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পরে, যার ফলশ্রুতিতে ইটালি ১ম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর বিরুদ্ধে লড়াই করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ ১ম বিশ্বযুদ্ধ (২য় পর্ব)

১ম বিশ্বযুদ্ধ, ১৯১৪।

যুদ্ধ সম্পর্কে জার্মানদের উৎসাহ তখন তুঙ্গে। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এমন সুযোগ তাদের কাছে অনেক বছর হল আসেনি। প্রতিটি দেশপ্রেমিক জার্মানের বিশ্বাস, এই মহাযুদ্ধ পুরা বিশ্বের মানচিত্রকে আমূল পালটে দিবে। যুদ্ধে তারা জয়লাভ করবেই। তাদের প্রধান শত্রু হল, মহাশক্তিধর ব্রিটেন, ফ্রান্স আর নতুন পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা রাশিয়া। এদের সাথে তাদের পুঁচকে সাগরেদ রাষ্ট্রগুলও যোগ দিয়েছে। তাতে কি। জার্মানরা আর এদের ভয় পায় না। পৃথিবীতে জার্মান সাম্রাজ্যের পতাকা এই উঠল বলে।

সেনাবাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবক সৈন্যের অভাব পরে না। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে যুদ্ধে যোগ দিতে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারকে হত্যা চেষ্টা (১)

অ্যাডলফ হিটলারের জীবনের উপর স্বভাবতই অনেকবার আক্রমণ করা হয়েছিল। নাৎসি পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই সব আক্রমণ শুরু হয়। প্রতিবারই তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় হত্যা চেষ্টা


১) যুদ্ধের সময় হিটলার ও তার দলের সঙ্গীরা একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছিল। হিটলার কি মনে করে বাঙ্কারের বাইরে বেরিয়ে আসেন। এক মুহূর্ত পরেই, শত্রুর আর্টিলারি শেল সরাসরি তার বাঙ্কারের উপর এসে পরে। তার সব সঙ্গীরা মারা যায়। কেবল মাত্র বাইরে বেরিয়ে আসার কারণে তিনি বেঁচে যান।


২) ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার অলৌকিকভাবে দ্বিতীয় জীবন পান। ১৯১৪ সালে অক্টোবরে, যুদ্ধের সময়, হিটলার হেনরি ট্যান্ডি(henry tandy) নামক একজন ব্রিটিশ সেনার গুলির আওতায় চলে আসেন। ট্যান্ডি হিটলারকে দেখে গুলি করেন। গুলির আঘাতে হিটলার পড়ে যান। ট্যান্ডি দ্বিতীয়বার গুলি করার জন্যে হিটলারের কাছে আসেন। কিন্তু হিটলারকে অসহায়ভাবে পড়ে থাকতে দেখে তিনি গুলি নামিয়ে নেন। এভাবে হিটলার প্রাণে বেঁচে যান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারকে হত্যাচেষ্টা (২)

১৯৩৩ সালে, হিটলার নির্বাচনে জয়ী হয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর পদে নিযুক্ত হন। এভাবে জার্মানিতে নাৎসি যুগ শুরু হয়।

চ্যান্সেলর হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর হিটলারের জনপ্রিয়তা কম ছিল। দেশের অনেক মানুষ একনায়কতন্ত্রের সফলতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি হিটলারের আক্রমণাত্মক মনোভাবও অনেকের পছন্দ হয়নি। তবে কয়েক বছরের মধ্যে হিটলার জার্মানিকে পুনরায় বিশ্বশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। জার্মান জাতির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনেন। হিটলার তার দেশের মানুষকে কথা দিয়েছিলেন, তিনি দেশ থেকে বেকারত্ব দূর করবেন। বাস্তবে তিনি তা করে দেখিয়েছিলেন, এই কারণে অসংখ্য মানুষ পরে তার অনুরাগী হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারকে হত্যাচেষ্টা (৩) The Heinrich Himmler bomb plot

১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে, হিটলার, ১ম বিশ্বযুদ্ধে হারানো জার্মান ভূখণ্ডগুলোকে(অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, রাইন-ল্যান্ড, ডানযিগ ইত্যাদি) পুনরায় তার স্বপ্নের third reich এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে সচেষ্ট হন। ইতিমধ্যে তিনি দেশের বেকারত্ব অনেকাংশে দূর করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। দেশকে সর্বকালের সেরা সামরিক শক্তিতে পরিণত করতে অস্ত্রের প্রয়োজন। এই জন্যে তিনি বিশাল অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই সব অস্ত্র কারখানাগুলোতে প্রায় সব শ্রেণীর মানুষরা কাজ পেয়ে যায়। যুদ্ধাবস্থায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এই কারণে সমগ্র দেশ জুড়ে তৈরি করা হই সুবিশাল ও অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ভাবে হিটলার দেশের মানুষের মন জয় করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ ভারসাই(versailles) চুক্তি

১৯১৮ সালের ১০ নভেম্বর, জার্মানি ও তার মিত্রপক্ষের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। পরের দিন, তথা ১১ নভেম্বর জার্মানি ও মিত্রশক্তির মধ্যে আত্মসমর্পণ চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এই পরাজয় হজম করতে, অনেক জার্মান প্রস্তুত ছিলেন না। কেননা, সেই সময় বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে জার্মানরা শত্রুপক্ষের সাথে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায়, পরাজয়ের খবর অনেক জার্মানের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আসে। পরাজয়ের গ্লানি তারা কখনো হজম করতে পারেননি।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(১ম পর্ব) Hitler in Munich

১ম বিশ্বযুদ্ধে, হিটলার একজন ডিসপ্যাচ রানার(বার্তা বাহক) হিসেবে জার্মান আর্মিতে যোগদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে, নিজ যোগ্যতাবলে তিনি কর্পোরাল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে এসে হিটলার একবার মারাত্মক আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।




সুস্থ হওয়ার পরে, হিটলার সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যাননি। বরং তিনি মিউনিখে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। মিউনিখে অবস্থানকালে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(২য় পর্ব) The German Workers Party

হিটলার লিখেন, "আমি বুঝতে পারছি, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। একমাত্র বোকা, মিথ্যুক আর বিশ্বাসঘাতকেরাই শত্রুর কাছ থেকে ভাল মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার আশা করতে পারে।"


" প্রতিটা রাত আমি নানাবিধ ভাবনায় পার করে দিই। যতই ভাবি ততই তাদের প্রতি আমার ঘৃণাবোধ বাড়তে থাকে। অথচ আমরা কি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারতাম না? দেশকে যারা ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যে বেঁচে দিয়েছে তাদের ক্ষমা নেই। তারা বেজন্মা পাপী। কঠোর শাস্তিই তাদের প্রাপ্য।"



হিটলার আরও বলেন, "এসব ভাবতে গেলেই আমার চোখ জ্বালা করতে শুরু করে।(১ম বিশ্বযুদ্ধে হিটলার শত্রুর গ্যাস আক্রমণের শিকার হন। বেশ কয়েকদিন ধরে তাকে চোখ জ্বালা কষ্ট সহ্য করতে হয়)। কিন্তু এই জ্বালা আমার হৃদয়ের রক্তক্ষরণকে বন্ধ করতে পারেনি।"


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(৩য় পর্ব) The NAZI party

১ম বিশ্বযুদ্ধের পর, অসংখ্য রাজনৈতিক দল জার্মানিতে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে। জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি(DAP) তাদের মধ্যে অন্যতম। অন্য দলগুলো কালের অতলে হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, মানুষ আজও জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির কথা মনে রেখেছে। কারণ, নাৎসি পার্টি হল এই ছোট রাজনৈতিক দলেরই বিবর্তনের ফসল।
জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে হিটলারের মেম্বারশীপ কার্ড।

জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে হিটলারের যোগদানের ঘটনাটি, অত্যন্ত আকস্মিকভাবে ঘটে যায়। প্রস্তাব পাওয়ার পরে তিনি ভাবনায় পড়ে যান।  সারারাত তিনি ঘুমোতে পারেননি। তিনি নিজে একটি রাজনৈতিক দল গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগদান করলে সেই আশা পূরণ হবে না। তার উপর, রাজনৈতিক দলটি একেবারে আনাড়ি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(৪র্থ পর্ব) "এই রিভলভারে ৪টা গুলি আছে, ৩টা আপনাদের জন্যে, আর একটা আমার নিজের জন্যে।"



৯ নভেম্বর, ১৯২৩ সাল।

বাভারিয়ান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নোটিশ।

"কয়েকজন উগ্রমানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তির ছলচাতুরি এবং বিশ্বাসঘাতকতার কারণে, বার্গার-ব্রকলার(Bürgerbräukeller) বীয়ার হলের সভা পুরোপুরি পন্ড হয়েছে। বন্দুকের নলের মুখে, কর্নেল সাইসার(Hans Ritter von Seisser), জেনারেল লসো(Otto von Lossow) এবং আমার কাছ থেকে, তারা যে সব দাবি-দাওয়া আদায় করে নিয়েছে, আমি আমার নিজ ক্ষমতাবলে তা বাতিল ঘোষণা করছি। সেই সাথে, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খলামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকবার দায়ে, আজ থেকে, "ন্যাশনাল সোশিয়ালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স্‌ পার্টি"(National Socialist German Workers Party) সংক্ষেপে নাৎসি পার্টিকে, সম্পুর্ণরূপে অবৈধ ঘোষণা করা হল।
-গুস্তাভ রিটার ভন কাহ্‌র(Gustav Ritter von Kahr)
ডেপুটি কমিশনার অফ বাভারিয়া।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(৫ম পর্ব) নাৎসি পার্টি, রাষ্ট্রের অন্তঃপুরে অপর রাষ্ট্র

১৯২৪ সাল।

ল্যান্ডস্‌বার্গ কারাগার।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অ্যাডলফ হিটলার আট মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কারাগারে তিনি বিশেষ বন্দীর মর্যাদা পেয়েছেন। একটি বড় আরামদায়ক কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে এবং “বিশেষ বন্দীর” যাবতীয় সুযোগ সবিধা তাকে প্রদান করা হয়েছে। বন্দীকক্ষের জানালা দিয়ে, হিটলার দূরের নয়নাভিরাম পাহাড়গুলো স্পস্ট দেখতে পেতেন।




দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(ষষ্ঠ পর্ব) সাফল্যের নিশ্বাস দূরত্বে

১৯২৫ সালে হিটলার কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। অতঃপর তিনি তার দলকে নতুন করে সাজানোর কাজে হাত দেন। যা কিছু করার নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে করতে হবে। পরিকল্পনা অনুসারে A State within a State নীতি গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রের আদলে পার্টিকে সাজানো হয় এবং সেই সাথে খোলা হয় অনেক বিভাগ। সমগ্র দেশজুড়ে নাৎসি পার্টির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হিসেবে, জার্মানিকে ভাগ করা হয় ৯৮টি "গাউ(Gau)" এ। গাউ শব্দের বাংলা অর্থ হল "অঞ্চল"। এছাড়া অষ্ট্রিয়াতে, নাৎসি পার্টির অষ্ট্রিয়া শাখার আওতাধীন, অতিরিক্ত ৭টি গাউ সৃষ্টি করা হয়। প্রতিটি গাউ এর দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন "গাউলেইতার"(Gaulieter, eng:Gauleader)কে। এদের কাজ হল, পার্টির পক্ষে সর্বাত্মক প্রচালনা চালানো, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা, সদস্যদের মধ্যে সংহতি রক্ষা করা, সর্বপরি নিজেদের আদর্শে অটল থাকা এবং সেই আদর্শ যথাসম্ভব প্রকাশ করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ নাৎসিদের উত্থান(শেষ পর্ব) নাটকীয় বিজয়

১৯৩২ সালের ১০ এপ্রিল, জার্মানিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা নির্বাচনের মত, এতেও প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গের কাছে অ্যাডলফ হিটলার পরাজিত হন। পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় যদিও তিনি প্রায় ২০ লাখ ভোট বেশী পেয়েছিলেন, কিন্তু তবুও প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গকে হারানোর সামর্থ্য তার ছিল না।




হিটলারের পরাজয়ে তার বিরোধিরা উল্লসিত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, চ্যান্সেলর হেইনরিখ ব্রুনিং(Heinreich Bruening)। হিটলার নামক পাগলা ঘোড়াটিকে টানা দ্বিতীয়বারের মত আটকানো গেল, এই ভেবে তিনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। তার পরবর্তী লক্ষ্য, নাৎসিদের পঙ্গু করে দেওয়া।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারের অবসরকালীন নিবাস



১৯২৫ সালের ১৮ জুলাই, হিটলার প্রকাশ করেন তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ "মাইন কাম্ফ"। প্রকাশের প্রথম কয়েক বছর বইটি খুব কম মানুষই কিনেছিলেন। ফলে বইটি থেকে হিটলারের আয় ছিল যৎসামান্য। কিন্তু হিটলার চ্যান্সেলর হবার পরে দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে যায়। মাইন কাম্ফ অতি অল্প সময়ে তৎকালীন সব রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। হিটলারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও রাতারাতি ফুলে ফেপে উঠে। শীঘ্রই তিনি লাখপতি বনে যান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(১ম পর্ব) রাইখস্টাগ অগ্নিকান্ড(The Reichstag on fire)




২৭শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩।

সন্ধ্যা সাতটা।

"হ্যালো, যোসেফ গোয়েবলস বলছি।"

"হ্যালো, ডক্টর গোয়েবলস, আমি ডক্টর হাফেন্সস্টাগল।"

"ও! কেমন আছেন হের্‌ ডক্টর?"

"আছি কোনোরকম। একটা ঘটনা ঘটেছে হের্‌ গোয়েবল্‌স।"

"তবে দেরী না করে বলে ফেলুন ডক্টর। আজ আমার বাড়িতে হের হিটলার অতিথি হিসেবে এসেছেন। আমি চাই না তার রাতটা মন্দ কাটুক।"

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(২য় পর্ব) Hitler becomes Dictator




নির্বাচনে জয়লাভ করবার জন্যে যদি কোনো দল তার দেশের একটি আস্ত দালানে অগ্নিসংযোগ ঘটায়, তবে তাদের আপনি কি বলবেন? নিশ্চয় উন্মাদ?

বাংলাদেশীদের কাছে এটি মোটেও অবাক করার মতন কোনো ব্যাপার নয়। আমরা হরহামেশাই আমাদের দেশের প্রধান দুই দল এবং তাদের দোসরদের কাঁদা ছোড়াছুড়ি এবং জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্যে একে অপরের উপর দোষ চাপানোর ঘটনা প্রত্যক্ষ করি। সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ করে ঠিকই। কিন্তু যখন সব ধরণের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ পদ্ধতি ব্যর্থ হয়, তখন আমাদের শেষ আশ্রয় হল ব্যালট পেপার। কিন্তু সেখানেও আমরা নিরুপায়। প্রধান দুটি নিমকহারাম দল ছাড়া ভোট দেওয়ার মত যে আর কেউ নেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(৩য় পর্ব) the night of the long knives




১৯৩৩ সালের ২৩শে মার্চ, হিটলার তার দীর্ঘদিনের অধরা "enabling act" আইনটি বিনা বেগে পাশ করাতে সক্ষম হন। এটি এমন এক আইন, যার মাধ্যমে জার্মানির সম্পূর্ণ সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে। এছাড়া এর মাধ্যমে নতুন আইন পাশ এবং পুরাতন সকল আইনের পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করা সম্ভব। এই আইন অনুযায়ী জার্মানির সমস্ত দায় দায়িত্ব হিটলারের উপর বর্তালেও, আইনের একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে, জার্মানির প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বলবৎ রাখার কথা বলা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান সেনানায়ক মার্শাল পল ভন হিন্ডেনবার্গ। হিটলার "enabling act" এর মাধ্যমে জার্মানির সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করতে সক্ষম হলেও, প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ চাইলেই সামরিক আইন জারি করে হিটলারের শাসনের অবসান ঘটাতে পারবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ স্বপ্নের থার্ড রাইখ(৪র্থ পর্ব) operation hummingbird




৩০শে জুন, ১৯৩৪।

শনিবার।

মিউনিখে নিজের জন্যে নির্ধারিত হোটেল কক্ষে টেলিফোন সেট হাতে নিয়ে একা বসে আছেন অ্যাডলফ হিটলার। ৩০ ঘন্টা পেড়িয়ে গেছে, কিন্তু তিনি তার চোখের পাতা এখনো এক করতে পারেননি। ঘড়িতে সময় তখন সকাল ১০টা। অথচ এরই মাঝে কত কিছু ঘটে গেছে! সকাল সাড়ে ছয়টায় তিনি মিউনিখে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। আর সকাল সাতটার মধ্যেই, তিনি তার তথাকথিত শত্রুদের হোটেলে উপস্থিত হন এবং সরাসরি তাদের রুমে হানা দেন।