দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারকে হত্যা চেষ্টা (১)

অ্যাডলফ হিটলারের জীবনের উপর স্বভাবতই অনেকবার আক্রমণ করা হয়েছিল। নাৎসি পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই সব আক্রমণ শুরু হয়। প্রতিবারই তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় হত্যা চেষ্টা


১) যুদ্ধের সময় হিটলার ও তার দলের সঙ্গীরা একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছিল। হিটলার কি মনে করে বাঙ্কারের বাইরে বেরিয়ে আসেন। এক মুহূর্ত পরেই, শত্রুর আর্টিলারি শেল সরাসরি তার বাঙ্কারের উপর এসে পরে। তার সব সঙ্গীরা মারা যায়। কেবল মাত্র বাইরে বেরিয়ে আসার কারণে তিনি বেঁচে যান।


২) ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার অলৌকিকভাবে দ্বিতীয় জীবন পান। ১৯১৪ সালে অক্টোবরে, যুদ্ধের সময়, হিটলার হেনরি ট্যান্ডি(henry tandy) নামক একজন ব্রিটিশ সেনার গুলির আওতায় চলে আসেন। ট্যান্ডি হিটলারকে দেখে গুলি করেন। গুলির আঘাতে হিটলার পড়ে যান। ট্যান্ডি দ্বিতীয়বার গুলি করার জন্যে হিটলারের কাছে আসেন। কিন্তু হিটলারকে অসহায়ভাবে পড়ে থাকতে দেখে তিনি গুলি নামিয়ে নেন। এভাবে হিটলার প্রাণে বেঁচে যান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারকে হত্যাচেষ্টা (২)

১৯৩৩ সালে, হিটলার নির্বাচনে জয়ী হয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর পদে নিযুক্ত হন। এভাবে জার্মানিতে নাৎসি যুগ শুরু হয়।

চ্যান্সেলর হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর হিটলারের জনপ্রিয়তা কম ছিল। দেশের অনেক মানুষ একনায়কতন্ত্রের সফলতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি হিটলারের আক্রমণাত্মক মনোভাবও অনেকের পছন্দ হয়নি। তবে কয়েক বছরের মধ্যে হিটলার জার্মানিকে পুনরায় বিশ্বশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। জার্মান জাতির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনেন। হিটলার তার দেশের মানুষকে কথা দিয়েছিলেন, তিনি দেশ থেকে বেকারত্ব দূর করবেন। বাস্তবে তিনি তা করে দেখিয়েছিলেন, এই কারণে অসংখ্য মানুষ পরে তার অনুরাগী হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ হিটলারকে হত্যাচেষ্টা (৩) The Heinrich Himmler bomb plot

১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে, হিটলার, ১ম বিশ্বযুদ্ধে হারানো জার্মান ভূখণ্ডগুলোকে(অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, রাইন-ল্যান্ড, ডানযিগ ইত্যাদি) পুনরায় তার স্বপ্নের third reich এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে সচেষ্ট হন। ইতিমধ্যে তিনি দেশের বেকারত্ব অনেকাংশে দূর করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। দেশকে সর্বকালের সেরা সামরিক শক্তিতে পরিণত করতে অস্ত্রের প্রয়োজন। এই জন্যে তিনি বিশাল অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই সব অস্ত্র কারখানাগুলোতে প্রায় সব শ্রেণীর মানুষরা কাজ পেয়ে যায়। যুদ্ধাবস্থায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এই কারণে সমগ্র দেশ জুড়ে তৈরি করা হই সুবিশাল ও অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ভাবে হিটলার দেশের মানুষের মন জয় করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসঃ ভারসাই(versailles) চুক্তি

১৯১৮ সালের ১০ নভেম্বর, জার্মানি ও তার মিত্রপক্ষের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। পরের দিন, তথা ১১ নভেম্বর জার্মানি ও মিত্রশক্তির মধ্যে আত্মসমর্পণ চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এই পরাজয় হজম করতে, অনেক জার্মান প্রস্তুত ছিলেন না। কেননা, সেই সময় বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে জার্মানরা শত্রুপক্ষের সাথে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায়, পরাজয়ের খবর অনেক জার্মানের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আসে। পরাজয়ের গ্লানি তারা কখনো হজম করতে পারেননি।